বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৯

বন্যার্তদের সাহায্যে চবিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে চ্যারিটি কনসার্ট “চিঠি পৌঁছে যাবে”


গানের ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই ক্যাম্পাসের ব্যান্ডগুলোর উদ্যোগে “চিঠি পৌঁছে যাবে” ব্যানারে বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের জন্য আগামী ১লা সেপ্টেম্বর, রবিবার আয়োজিত হতে যাচ্ছে একটি চ্যারিটি কনসার্ট। দুপুর ২টা থেকে চবি'র সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে কনসার্টটি। কনসার্টের টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। সংগৃহীত অর্থ সহায়তা হিসেবে পাঠানো হবে গাইবান্ধা জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে।

রবিবারের এই কনসার্টে পারফর্ম করবে চবি ক্যাম্পাসের ব্যান্ড শহুরে, অজানা উড়ন্ত বস্তু, বক্ররেখা, পত্রঝড়, প্রলয়শিখা, The Pumpkins ও Odysseus । এছাড়া ক্যাম্পাসের বাইরের ব্যান্ডগুলোর মধ্যে থাকবে চট্টগ্রাম শহরের ব্যান্ড The Tree এবং UNMAD ।

আয়োজনটি নিয়ে কনসার্টটির অন্যতম উদ্যোক্তা, পত্রঝড় ব্যান্ডের ভোকাল কালপুরুষ জীবন বলেন, একজন মানুষ হিসেবে এটা আমাদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে চিন্তা করা। দিনের পর দিন মানুষগুলোর ক্রমাগত কষ্ট দেখে আর মানতে পারছিলাম না। আমি একজন ছাত্র এবং একজন আর্টিস্ট। তাই আমাদের আর্ট আর ছাত্রত্ব নিয়েই নামলাম।

নিজের আগ্রহ থেকে অনেক ছাত্রই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে একটি সুন্দর আয়োজনের জন্য। চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিকিট সংগ্রহ করে কনসার্টে অংশ নিয়ে এই মহৎ উদ্যোগটিকে সফল করবে, এটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রতিবেদন: হুইসেল

বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

দ্যা গুড লায়ন - আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। অনুবাদ: আবিদ খন্দকার ‍



কোনও এক দেশে থাকতো এক সিংহ। সেদেশের অন্য সব সিংহ ছিলো খারাপ। তারা প্রতিদিন হরিণ, জেব্রা আর একেক রকমের এন্টিলোপ ধরে খেয়ে ফেলতো, সুযোগ পেলে একেকদিন মানুষও খেয়ে ফেলতো। সোয়াহিলি, উম্বুলু আর ওয়ান্ডারোবস্‌দের খেতো, তবে সবথেকে বেশি ভালোবাসতো বাঙালি বণিকদের খেতে। কারণ তারা একটু মোটাসোটা হতো, স্বাদও হতো দারুণ।

তবে এই সিংহটিকে আমরা ভালোবাসি। কারণ সে খুবই ভালো আর তার পিঠে ডানা আছে। এই ডানা নিয়ে অন্য সিংহেরা মশকরা করতো। একেক সময় টিপ্পনী কেটে একজন আরেকজনকে বলতো, “দেখ দেখ! ডানাওয়ালা সিংহ যায়!” এই শুনে অন্য সিংহেরা তাদের গর্জনের স্বরে হো হো করে হাসতো। তার খাবার দেখেও অন্য সিংহেরা হাসাহাসি করতো। কেননা সে এতোই ভালো ছিলো যে, কেবল পাস্তা আর চিংড়ি খেতো।

খারাপ সিংহেরা গর্জন করে হাসতো আর হিন্দু বণিকদের খেতো, পাশে তাদের স্ত্রীরা বিড়ালের মতো করে চুক্‌ চুক্‌ করে খেতো রক্ত। তাদের এই উৎসবে ছেদ পরতো শুধুমাত্র হাসবার জন্য আর ভালো সিংহের ডানার দিকে দাঁত খিঁচিয়ে তাকানোর জন্য। সত্যিই ওরা খুব দুষ্ট ছিলো।

ভালো সিংহ শুধু জানতে চাইতো ওদের কাছে ইতালিয় পানীয় বা আমেরিকানো কফি আছে কিনা, সে তো আর বাঙালি বণিকের রক্ত খায় না! এমনই একদিন দুষ্ট সিংহেরা মিলে সদ্য শিকার করা মাসাইদের গরু খাচ্ছিলো, ভালো সিংহ তাদের পাশে বসে খাচ্ছিলো স্যুপ আর এক গ্লাস পামোদরো। এই দেখে খারাপ সিংহের দল গেলো ক্ষেপে। দলের মধ্যে সবথেকে দুষ্ট সিংহী ক্ষেপে গিয়ে বললো, “নিজেকে কী মনে করো তুমি? আমাদের থেকে খুব ভালো?” তার গোঁফে তখনও লেগে ছিলো হিন্দু বণিকের রক্ত। রাগে গড়গড় করতে করতে আবার বললো, “কোত্থেকে এসেছে ও?” এই শুনে দলের সব সিংহ একসাথে গর্জন শুরু করে দিলো।

ভালো সিংহ বললো, “তোমরা জানো, আমার বাবা কতো মহান। তিনি এমন এক দেশে থাকেন, যেখানে তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন বিরাট মিনারের নিচে। সেখান থেকে দেখা যায় হাজার হাজার পায়রা। তাদের সবাই আমার বাবার প্রজা। তারা ওড়ে বহমান নদীর মতো। আমার বাবার সামনে চারটি ঘোড়া ব্রোঞ্জের এক পা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে, কারণ তারা বাবাকে ভয় করে। আমার বাবার শহরে মানুষ হেঁটে নয়তো নৌকায় চড়ে চলাচল করে, সত্যিকারের ঘোড়া তাঁর সামনে হাঁটতে ভয় করে, তাই।”

দুষ্টু সিংহী গোঁফে জিভ বুলিয়ে নিয়ে বলে –
“তোমার বাবা হলো একটা শকুন!”
দুষ্ট সিংহের মধ্য থেকে একজন বলে ওঠে –
“তুমি মিথ্যাবাদী।”
দুষ্টু সিংহী আবার বলে,
“তুমি একটা অপদার্থ, শকুনের বাচ্চা। ডানাসুদ্ধ তোমাকে খেয়ে ফেললেই ভালো হবে।”

এই শুনে ভালো সিংহটি ভয় পেয়ে গেলো। সে দেখতে পেলো দুষ্টু সিংহীর লেজ শিকারের ভঙ্গিতে উঠানামা শুরু করে দিয়েছে। তার গোঁফে জমে থাকা রক্ত আর নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ লাগছিলো নাকে, কেননা দুষ্টু সিংহেরা কখনো দাঁত পরিষ্কার করতো না। সে আরও দেখছিলো দুষ্টু সিংহের থাবার নিচে লেগে আছে বাঙালি বণিকের এক টুকরো মাংস। এসব দেখে ভালো সিংহ ভয়ে ভয়ে বললো, “আমাকে মেরো না। আমার বাবা একজন সজ্জন ব্যক্তি। সবার কাছে তিনি সম্মানীয়।”
দুষ্টু সিংহী সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়লো ভালো সিংহের দিকে। কিন্তু ততক্ষণে ভালো সিংহ তার ডানায় ভর করে উপরে উঠে গিয়ে রক্ষা পেলো। দুষ্টু সিংহের দল তার নাগাল না পেয়ে রাগে গড়গড় করছিলো। ভালো সিংহ উপর থেকে মনে মনে বলছিলো, “সব ইতরের দল!”

পুরো দলের উপরে একবার চক্কর কেটে সে তাদের আরও রাগিয়ে তুললো। তারপর দুষ্টু সিংহীর চোখে দেখার জন্য কিছুটা নিচে নেমে এলো, সাথে সাথে সেই সিংহী লাফ দিয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো। ভালো সিংহ তার জ্ঞানের ছাপ রাখতে স্প্যানিশে তাদের বিদায় জানাতে বললো, “Adios”। সে আবার খুব সংস্কৃতিবান সিংহ ছিলো তাই, ঝকঝকে ফরাসী ভাষায় আবার বললো, “Au Revoir”। এই শুনে দলের সব সিংহ তাদের বর্বর ভাষায় গালাগাল করতে শুরু করে দিলো।
এরপর ভালো সিংহটি চক্রাকারে একটু ঘুরে উড়তে শুরু করলো তার স্বপ্নের শহরের দিকে। তার বাবার সেই চৌরাস্তায় এসে অবতরণ করলো সে। সবাই তাকে দেখে খুশী হলো। সেখান থেকে অল্প একটু উড়ে গিয়ে বাবাকে চুমু খেলো সে। দেখলো, ঘোড়াগুলি এখনও এক পা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা দেখতে সাবানজলে ফোলানো বুদবুদের চাইতেও সুন্দর। গির্জার ঘণ্টাঘরটিও আছে ঠিক আগের মতোই। সন্ধ্যা নামায় পায়রাগুলি উড়ে যাচ্ছিলো নিজ ঘরের দিকে।

বাবা জানতে চাইলো, “দেশের সবাই কেমন আছে?” “ওরা সব ইতরই আছে এখনো।” উত্তর দেয় ভালো সিংহ। বাবা বললো, “দেখো, আমাদের এখানে রাতের জন্য বাতি লাগানো হয়েছে।”
দায়িত্বশীল সন্তানের মতো জবাব দিলো সে, “দেখেছি।” ছেলের উপর নির্ভর করে বাবা বললো, “ এই আলো অবশ্য আমার চোখে লাগে।” তারপর আবার বললো, “ তাহলে, এখন কোথায় যাবে?” ভালো সিংহ জবাব দিলো, “হ্যারির পানশালায়।” বাবা বললো, “তাহলে সিপ্রিয়ানীকে বোলো, ওর পাওনা মিটিয়ে দিতে আমি যাবো শীঘ্রই।” “হ্যাঁ বাবা বলবো।” উত্তর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো সে।

পায়ে হেঁটে হ্যারির পানশালায় পৌঁছাল সে। সিপ্রিয়ানীর এখানটাতেও তেমন কিছুই বদলায়নি। তার আবার মনে হচ্ছিলো, হয়তো শৈশব থেকে সে নিজেই বদলে গেছে। সিপ্রিয়ানী তাকে দেখেই চিনে ফেলেছিলো। অভিবাদন জানিয়ে সিপ্রিয়ানী বললো, “কী খাবে? এক গ্লাস, হিন্দু বণিকের রক্ত দেবো কি?” ভালো সিংহ চমকে উঠে বললো, “না না! এক গ্লাস কফি হবে কি?” সিপ্রিয়ানী উত্তর করলো, “হতে একটু সময় লাগবে। ততক্ষণে বাঙালি বণিকের মাংসের একটা স্যান্ডউইচ খেতে পারো।”

ভালো সিংহ অবাক হয়ে চারপাশ দেখতে লাগলো।


অনুবাদক:

আবিদ খন্দকার
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, মাস্টার্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৯

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা আল মাহমুদের দুষ্প্রাপ্য কবিতা ‘নিশিডাক’


বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আল মাহমুদ একটি কবিতা লিখেছিলেন। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, তাঁর কোনো কাব্যগ্রন্থে, কবিতাসমগ্রে কিংবা রচনাসমগ্রতেও কবিতাটি নেই! সম্প্রতি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল ও নুরুল হক কবিতাটি সংগ্রহ করেছেন। আসুন, ঐতিহাসিক কবিতাটি আগে পাঠ করে নিই।

নিশিডাক

আল মাহমুদ


তার আহবান ছিলো নিশিডাকের শিসতোলা তীব্র বাঁশীর মত।

প্রতিটি মানুষের রক্তবাহী শিরায় কাঁপন তা বাজত
নদীগুলো হিসহিস শব্দে অতিকায় সাপের মত ফণা তুলে দাঁড়াতো
অরণ্যের পাখিরা ডাকাডাকি করে পথ ভুলে উড়ে যেত সমুদ্রের দিকে।

সে যখন বলল, ‘ভাইসব।’
অমনি অরণ্যের এলোমেলো গাছেরাও সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে গেল
সে যখন ডাকলো,‘ভাইয়েরা আমার।’
ভেঙ্গে যাওয়া পাখির ঝাঁক ভীড় করে নেমে এল পৃথিবীর ডাঙায়
কবিরা কলম ও বন্দুকের পার্থক্য ভুলে হাঁটতে লাগলো 
খোলা ময়দানে।

এই আমি 
নগন্য এক মানুষ
দেখি, আমার হাতের তালু ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে
এক আগুণের জিহবা।

বলো, তোমার জন্যই কি আমরা হাতে নিইনি আগুন?
নদীগুলোকে ফণা ধরতে শেখায় নি কি তোমার জন্য–
শুধু তোমার জন্য গাছে গাছে ফুলের বদলে ফুটিয়েছিলাম ফুলকি,
আম গাছে গুচ্ছ গুচ্ছ ফলেছিল
গ্রেনেড ফল। আর সবুজের ভেতর থেকে ফুৎকার দিয়ে
বেরিয়ে এল গন্ধকের ধোঁয়া। আহ্
আমি এখন আর চোখ মেলতে পারছি না।


কবিতাটি বেবী মওদুদ সম্পাদিত ‘বাঙালির শুদ্ধ নাম শেখ মুজিবুর রহমান’ নামক সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল। সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল একদিন কবি আল মাহমুদকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘মাহমুদ ভাই, বঙ্গবন্ধু আপনার জন্য এতো করেছেন অথচ আপনি তাঁকে নিয়ে একটি কবিতাও লিখেন নি’!
জবাবে কবি বলেছিলেন,  ‘কি বলো মিয়া, তোমরা আমার বই মন দিয়ে পড়ো না। তাঁকে অর্থাৎ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে লেখা ‘নিশিডাক’ নামে আমার অসাধারণ কবিতা আছে। যা গুণের ১০০ কবিতার চেয়েও ভারী’।
বেবী মওদুদ সম্পাদিত বইটি থেকে। ছবি সৌজন্য: নূরুল হক


নির্মলেন্দু গুণের প্রসঙ্গ এসেছে, কারণ তার লেখা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ বেশ বিখ্যাত কবিতা। আল মাহমুদের কবিতার মূল ব্যাপার এই যে, এটি শিল্পমানসম্মত একটি কবিতা হয়ে উঠেছে, স্লোগান বা নিছক বর্ণনায় পরিণত হয়নি। আল মাহমুদ একাত্তরে কলকাতায় ছিলেন, আরো অনেক কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবীর মতো সেখান থেকে প্রচারণা চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। সেসব চিত্রই উঠে আসে ‘কবিরা কলম ও বন্দুকের পার্থক্য ভুলে হাঁটতে লাগলো/খোলা ময়দানে।’ পঙক্তিগুলোয়। পুরো কবিতাই মূলত ৭ই মার্চের আহ্বান শুনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উপাখ্যান।

একবারও বঙ্গবন্ধু, শেখ মুজিব কিংবা ৭ই মার্চ শব্দগুলো উচ্চারণ না করেই, আল মাহমুদ যে কবিতাটি লিখে ফেললেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এরচেয়ে শিল্পসম্মত কবিতা আর আছে কি?

(কবিতাটি উদ্ধারে যারা পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।)
দেওয়ান তাহমিদ
সদস্য, হুইসেল সম্পাদনা পর্ষদ

বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

কাশ্মীর নিয়ে তিনটি কবিতা


উপমহাদেশ, কাশ্মীর, ৯৩

আল মাহমুদ

মানবিক বৃত্তির যা কিছু প্রাপনীয় ,কিনে নিতে হবে রক্তের দামে।
যেমন কিনে নেয় মানুষের গুলিবিদ্ধ বুক সন্তানের স্বাধীনতা, গ্রামগুলোর সম্ভ্রম।
ভূস্বর্গে আগুন জ্বলছে। আর আমাকে কে যেন চোখ বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে
                                   বদ্ধভূমির দিকে -
তবুও কি অদম্য মানুষের স্বাধীনতার গান।
স্বাধীনতা, শব্দটি পারতপক্ষে এখন আর উচ্চার্য নয়।
স্বাধীনতা, এক উপত্যকাবাসীর ফিনকি দেওয়া রক্তের চিৎকার। লেকের ভেতর
প্রতিটি নৌকোয় এখন গুঞ্জরিত হচ্ছে কাশ্মীর। মনে হয় প্রতিটি বিষণ্ন মুখই
উদ্গীরণ করতে পারে বুলেট।
প্রতিটি যুবতীরর বক্ষসুষমায় লুকিয়ে আছে বিস্ফোরক।
প্রতিটি কিশোরীর ইজ্জতের ওপর এখন রোপিত আছে স্বাধীনতার পতাকা।
অত্যাচারীর প্রতিটি রোমকূপ এখন আজাদীর রক্তে সিক্ত। স্বাধীনতা এখন
হাত বাড়িয়ে দেওয়া ইতিহাস কিংবা
ইতিহাস এখন অপেক্ষমাণ কাশ্মীর।

আমেরিকা তোমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে এক কবি।
উপমহাদেশের জর্জরিত মানবাত্মার সর্বশেষ বিশ্বাসের স্তম্ভ।
আমেরিকা তোমার একটিই প্রশ্ন: ইসলামের কি এখন আর বিক্রি করার আছে?
আমরা বিনিময় করি বিশ্বাস। আমাদের কাছে ঈমান। আমেরিকা
              তুমি কি জানো ঈমান কি?
ডলারের স্তুপ
তোমার কৃৎকৌশল
তোমার একচেটিয়াবাজি থেকে হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়া
              নিউক্লিয়ার ওয়েপন।
আর তোমার হাতের পাঁচ জাতিসংঘের সিন্দুকে যা নেই।
আমাদের লেনদেন সেই বিশ্বাসের।
বিশ্বাস, যা নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে জাতিগুলোর স্বাধীনতার দীর্ঘশ্বাস, কাশ্মীর।


তোমরা ও নরসীমা রাও
ও লালকৃষ্ণ আদবানী, ও শ্রীবাল ঠাকরে
তোমরা কি জান না মানুষের জন্ম হয় নারীর জঠরে?
কাশ্মীরের ধর্ষিতা যুবতীরা জানে কোনও নারীর গর্ভ তোমাদের জন্ম দেয়নি।
তোমরা আগুনের সন্তান। ইবলিসের ঔরস থেকে ছিটকে পড়া স্ফুলিঙ্গ মাত্র।
তোমাদের বাসস্থান হাবিয়া।


আল মাহমুদের কবিতাটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত তাঁর ১১তম কবিতাগ্রন্থ আমি, দূরগামী থেকে নেয়া।



শ্রীনগরে দেখা হবে

কবীর সুমন

যেখানেই  থাকো তুমি শ্রীনগরে দেখা হবে
ইতিহাস তুমি বলো স্বাধীনতা দেবে কবে।
ঝিলমের স্রোতে বাসে রাতের কবিতা একা 
আঁধারের কবি জানে শ্রীনেগরে দেখা হবে।

ইনস্যাস থেকে গুলি আকাশে বুলেট ক্ষত
তারারা গুলির দাগ প্রদীপ জ্বলবে যত।
কার ঘরে নিভে গেছে প্রদীপের শিখা কবে
আফজল গুরু শোনো শ্রীনগরে দেখা হবে।

ফাঁসিতে বুলেটে বুটে ইতিহাস ফ্যালে পিষে
সেই ইতিহাসই বাঁচে একা দোয়েলের শিসে।
কাশ্মীরে স্বাধীনতা ডাকছে দোয়েল একা 
গানের কসম জান শ্রীনগরে হবে দেখা।।


এটি মূলত কবীর সুমনের গানের লিরিক। ২০১৬ সালে এটি লিখে  তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের রোষের মুখে পড়েন। তাঁর ফেসবুক আইডি সাময়িকভাবে ব্লক করে দেয়া হয়। এখানে কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা আফজাল গুরুর পক্ষে কথা বলা হয়েছে। আফজাল গুরুকে সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। অরুন্ধুতি রায় সহ ভারতীর অনেক বুদ্ধিজীবীই এটির প্রতিবাদ করেছিলেন। 


অনন্ত কাশ্মীর

হাসান রোবায়েত

তোমার কথা শুনেছে এক কবি
কেবল কল্পনাতেই থরথর
বরফ পড়া প্রাচীন উপত্যকা
জোসনা এসে বাজাতো সন্তুরও—


এখন তোমার চিনার বনে পাখি
হারিয়ে যায় আম্মাকে ডাক দিয়ে
রক্তকেকায় ময়ূর সহজিয়া
ঘুমিয়ে পড়ে অজস্র ইন্দ্রিয়ে—

এখন আমি কাঁদতে পারি হুহু
ফিলিস্তিনও ফুটছে লেবুর ডালে
শাদা ঘ্রাণের প্রসঙ্গতা যেন
ফেনোচ্ছলে উড়ছে কত সালে!

আমার সমাজ ফ্যাসিবাদের ভূমি
কেউ ভালো নাই পাহাড়-সমতলও
ইয়েমেনের রুগ্ন শিশু দেখেও
ক্যামনে তুমি ভাতের নলা তোলো

আকাশ ভরা ফসফরাসের বন
অপরাহ্ণে অন্ধ আফিম তীর
আমার মাকেও ডাকতে গিয়ে আমি
ডেকেছি বোন, অনন্ত কাশ্মীর—

কবিতাটি  হাসান রোবায়েত তাঁর ফেসবুক আইডিতে ১০ই আগস্টে পোস্ট করেন।


সংকলন- হুইসেল টিম


বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৯

চিৎকার - ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ । গল্প

ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ


মি জানি। এতক্ষণে ওরা সব জেনে গেছে। এসব বিষয় চাপা থাকে না। আজ রাতটা পোহালেই কাল সকালে দরজায় পুলিশ এসে হাজির হবে। আমাকে শক্ত হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে হাজতে পুরে দেবে। পুলিশের গাড়িতে হয়তো দীপেনদা'রাও থাকবে। তাদের হাতেও ঝুলবে হাতকড়া।

গতকাল আরেকজনকে যখন কেবল কথা বলার অপরাধে মেরে ফেলা হলো, আমরা আর চুপ করে বসে থাকতে পারিনি।মিছিল-সমাবেশ বন্ধ। স্লোগান বন্ধ। কেউ একটু আওয়াজ তুললেই লাঠির বাড়ি আর হাজতবাস অথবা মৃত্যু। কোনো প্রতিবাদ নেই, প্রতিরোধ নেই। কার ঠেকা পড়েছে আগ বাড়িয়ে মরতে যাওয়ার! আমরা খুব বেশি কিছু করতে পারিনি। রঙ আর তুলি নিয়ে বেরিয়ে গেছি রাতে।

শালা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বাকস্বাধীনতা। আমার মুখের কথা ওরা কেড়ে নিচ্ছে, দিনে দুপুরে লাশ হয়ে ফিরছে যুবক, ছোট্ট মেয়েটা ধর্ষিত হয়ে গেলো। অথচ কোনো বিচার নেই। এরকম অবস্থায় কীটপতঙ্গের মত চুপচাপ বাসায় বসে বাংলা, অংক গিলবো?

আমি জানতাম, আমাদের দেয়ালে লেখা কথাগুলো হয়তো খুব ছোট, রঙ লেপ্টে গেছে অনেকখানি, তবুও কথাগুলো স্পষ্ট পড়া যায়- “যেই সমাজ পচা গলা, সেই সমাজ ভেঙে দাও।”,
“একটা কলম রুদ্ধ হলে, হাজার কলম চলবে।”, “যেই হাত মানুষ মারে, সেই হাত ভেঙে দাও।” আরো অনেক অনেক লেখা, অনেকগুলো দেয়ালে। শহরের আনাচে কানাচে। অলিতে গলিতে।

আমি ঠিক জানতাম এই ছোট কাজটাও ওদেরকে ভয় ধরিয়ে দেবে। ওরা অস্থির হয়ে উঠবে, তন্নতন্ন করে খুঁজে বের করবে সেই বখে যাওয়াদের, যারা রাতের আঁধারে এসব লিখে গেছে।
কেননা তারা প্রশ্নকে ভয় পায়, একটা ছোট আওয়াজকে ভয় পায়, দাবিকে ভয় পায়, স্লোগানকে ভয় পায়,মিছিলকে ভয় পায়, মুষ্টিবদ্ধ হাতকে ভয় পায়।

দীপেনদা হয়তো আমার কথাগুলো শুনলে বেশ মজা পেত।হয়তো ভাবতো, ফ্যান্টাসিতে টগবগ করছি। এখনো ভেতরের জায়গাটা অতটা শক্ত হয়নি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমরা কিছু হলেও করেছি। অন্তত চুপ করে থাকিনি।

আমি ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছি। এর আগে কখনো এরকম অভিজ্ঞতা হয়নি আমার। কী কতটুক কিভাবে নেওয়া উচিত, কতটুকু নেয়া যাবে, সেসব বিষয়ে বুঝে উঠতে পারছি না। কিছুটা কনফিউজড। ভেবেছিলাম দীপেন দা'কে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করবো। কিন্তু কল দেয়া হলো না। মা এখনো কিছু জানে না। কিছু বলিনি। মা হয়তো ভেবেছে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছে, যাক। বাবা ধরে ফেলেছে ব্যাপারটা। মাকে পাশ কাটিয়ে আমার রুমে এসেছে। বাবা আমাকে কিছু বলছে না।কোনো বকাঝকা করছে না। চুপচাপ এসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছে।

বাবা আমাকে কখনো মাথা নত করতে শেখাননি। বাবা আমাকে শিখিয়েছেন যা যাহচ্ছে সব একটা প্রক্রিয়ার ফল। এই যে আমাদের বাসায় প্রতিদিন ডাল আর শাক, আর অন্য বাসায় প্রতিদিন দলা দলা মাংস ওটাও একটা প্রক্রিয়ার ফল।এই যে আমি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাই, আমার বন্ধুটা ফেল করে হতাশ হয়, কান্না করে, এটাও একটা প্রক্রিয়ার ফল। বাবা বলতেন -“এই যে সেদিন আমি তোকে একটা চকলেটের লোভ দেখিয়ে সারাদিন ধরে তোকে দিয়ে আমার বইয়ের তাক, মোটামোটা বইগুলো পরিষ্কার করিয়ে নিলাম, তুইও চকলেটের লোভে সারাদিন খেটে সেগুলো পরিষ্কার করে ফেললি। কিন্তু দিনশেষে আমি আর তোকে চকোলেটটা দিলাম না। তুই দুঃখ পেলি কিন্তু আমি বাবা বলে তুই আমাকে কিছু বলতে পারলি না, এটাই হচ্ছে পুঁজিবাদ।” আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করি- তাহলে কি তুমি পুঁজিবাদী? বাবা হাসেন।

বাবা আজও হাসছে। আমার ব্যাগ গোছানোটা সম্ভবত বাবার খুব হাস্যকর লাগছে। তিনি হাসতে হাসতে বললেন ব্যাগটা রেখে দিতে। ওরা বাইরে থেকে কোনো ব্যাগ নিতে দেয় না। আমি ব্যাগটা রেখে দিলাম। আমাকে সম্ভবত আজ একটু গম্ভীর দেখাচ্ছে। বাবা আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে চলে গেলেন। আমি ঘুমোতে গেলাম।

আমার কি একটু ভয় করছে?

আমার দীপেনদা কে দেখলে ভয় কেটে যায়। বারবার দীপেনদা’র কণ্ঠস্বর বুকের ভেতর বাজছে- “আমরা যেন আমাদের জীবনের কাছে হেরে না যাই। আমরা যেন সময়ের কাছে অপরাধী না হই। মনে রাখতে হবে-যেই ব্যাবস্থায় আমরা আছি,সেটাকে আমরা বদলাতে চাই। আমরা স্বপ্ন দেখছি সুন্দর, সাম্যের একটি পৃথিবীর। প্রত্যেকটি মানুষের জন্য নিরাপদ একটি পৃথিবীর। সেই পৃথিবী এমনি এমনি আসবে না।তার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। বিদ্রোহ করতে হয়। যদি আমি নিরবে বসে থাকি, তাহলে আমিও কোনো না কোনোভাবে এসব অপব্যাবস্থাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি।” দীপনদা বলতেন, “মনে রাখবেন-একা একা ভালো থাকা যায় না। কেননা আমার জীবন আমার একার উপর নির্ভরশীল নয়। ঐ গ্রামের কৃষক ধান না ফলালে আমরা না খেতে পেয়ে মারা যাব, ওই শ্রমিক কাপড় তৈরি করা বন্ধ করে দিলে আমরা কাপড় পরতে পারবো না। তাই ওই কৃষক যখন তার ধানের ন্যায্য মজুরী পায় না, তখন তার জন্যও আমাদের লড়তে হবে।”

একটা কলম আর খাতা নিয়ে যাব ভাবছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো, দীপেনদা আছেন। উনি তো নেবেনই এসব। দীপেনদা জেলে বসেও কিছু না কিছু করবেন।

সকালবেলা খুব তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেছে। ঘরের দরজায় কোনো পুলিশ এসে দাঁড়ায়নি। বাইরে কোনো পুলিশের গাড়ি নেই। কিন্তু ১০টা নাগাদ থানা থেকে ফোন আসে। তারা আমাকে একটু জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। সময় আধাঘণ্টা। এর মধ্যেই থানায় উপস্থিত হতে হবে।

আমার ২৫ মিনিট লেগেছে।

আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ রুমে নেয়া হলো।

ওই রুমে দীপেনদারাও বসে আছে। এতক্ষণ একটু ভয় ভয় করছিলো। এখন দীপেনদাকে দেখে ভয় চলে গেছে। দাদাকে দেখলেই ভয় কেটে যায়।

আমরা দীপেনদাসহ ৫ জন একসাথে বসে আছি একটা টেবিলে। অন্য দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরো ২০-২৫ জন।সবাইকে বিভিন্ন কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। এরা সবাই হবু অপরাধী। আমরাও।

আমাদের সামনে কয়েকজন পুলিশের লোক। চোখে মুখে খুব বিরক্তি নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন ফাঁসির আসামী বসে আছে তাদের সামনে। দেখেই মনে হয় খুব অপদস্থ করার পরিকল্পনা নিয়ে বসেছে তারা। একটা কাগজে আমাদের সবার নাম লিখতে দেয়। আমরা নাম লিখে কাগজটা ফেরত দিই।

আশেপাশে কথা বলার আওয়াজ হয়। পুলিশ অফিসার জোরে ধমক দিয়ে ওঠেন। সব চুপচাপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর একজন পুলিশ দীপেন দাকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন—
“What you all have done last night?”

ইংরেজীতে মাস্টার্স দীপেনদা, বাংলায় উত্তর দেন- “যা আপনি বলতে পারেননি এতদিন, তা'ই আমরা ওই দেয়ালে লিখে বলেছি। আপনি কি চান না আপনার মেয়ের সমান কেউ ধর্ষিত হলে তার প্রতিবাদ হোক? অথবা আপনি কি শিওর যে কাল আপনার ভাই রাষ্ট্রের কোনো অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে খুন হয়ে গেলে আপনি তার বিচার পাবেন অথবা তা নিয়ে অন্তত কোনো কথাও আপনি বলতে পারবেন?”

দীপেনদা’র এমন প্রশ্নের সামনে পুলিশ অফিসার থতমত খেয়ে যায়। থতমত খেয়ে মাটির দিকে তাকায়। চোখ উপরে ওঠাতে পারে না। কিছুক্ষণ পর চোখ মাটিতে রেখেই নিচু গলায় প্রশ্ন করে। ঠিকঠাক পুরোটা বোঝা যায় না।
-তাহলে আপনারাই ঐ কাজগুলো করেছেন?
দীপেনদা আমার দিকে তাকায়। আমিও তাকাই দীপেনদা'র দিকে। আমি তাকাতেই দীপেনদা হো হো করে হেসে ওঠে।দীপেনদা'র বিকট শব্দে হাসার অভ্যাস। এখনো সেভাবে হাসছেন। আমিও হাসছি। এখন আশেপাশের সবাইও হাসছে।হো হো করে হাসছে। হাসির শব্দ বাড়ছে।

হো হো হো হো হো হো...

মাঝখানে পুলিশ অফিসার চেয়ারে বসে আছে। কোনো প্রতিবাদ করছে না। চুপ করে বসে আছে। কলম নাড়াচ্ছে।খাতায় কিছু লিখতে পারছে না। একটা টিকটিকি টেবিলের ওপর হয়ে সোজা পুলিশ অফিসারের ঘাড়ের উপরে গিয়ে পড়েছে। অফিসার সেটাকে ফেলছে না। ঘাড় নাড়াচ্ছে না।

সবাই হো হো করে হাসছে।

লেখক; ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ
শিক্ষার্থী, নাট্টকলা ইন্সটিটিউট, চবি।

তুচ্ছ ,মনে হয় - শামীম সৈকত । কবিতা





তুচ্ছ, তোমার হাত। স্টেশন ভাসিয়ে বৃষ্টি। শিশিরভেজা শুকনো খর। ভাত নেই, পাথর রয়েছে। ওদিকে যেও না কো তুমি আর। যখন একাকী, আমি একা, তুমি রকমারি দোকান। পায়ে পায়ে জন্ডিস বিকেল। তার্কিক গোধূলি। অতর্কিত বোতামের হুশিয়ারি। সাবধান! সাবধান। মাইকের কান্নায় ঘুমিয়ে পড়ে ষোলশহরের ফুটপাত।
এক অসুখে দুজন অন্ধ। আয়কর ও অন্ধকার। একবার আমি একবার তুমি। এ খেলা বহমান নদী। এবার হয়েছে সন্ধ্যা। ঘরবিরহী চাবির শোক। প্রেম পাবো তাই কান পেতে শুনি। কিছিমের নোনা জীবনী। জলে স্থলে বিষম খেলা। মনে মনে হেঁটে যাই অনেক বেলা, অবেলা।

তেসরা এপ্রিল।
সোনালি আর ডালিয়া।
একটি নিগূঢ় গ্রামের কথা।
সেরগেই এসেনিন বলছে,
তিনটি উজ্জ্বল মাছ। জাহাজের কোঠায়।
গ্রীণকার্ড। কাজীর দেউরী। হাট তরমুজ।
কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড।
আলোক সরকার আর অন্ধকার রায়
সৃষ্টিশীলতার প্রতি হেঁটে যায়।


লেখকঃ শামীম সৈকত
প্রাক্তন শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, চবি। 
(কবিতাটি হুইইসেলের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত)